FANDOM


Abdul Majid Bir Protil.JPG
215px
মৃত্যু ২০০৫
জাতীয়তা বাংলাদেশী
বংশোদ্ভূত বাঙালি
নাগরিকত্ব Bangladesh flag.png বাংলাদেশি
যে জন্য পরিচিত বীর প্রতীক
ধর্ম মুসলিম

আবদুল মজিদ (জন্ম: অজানা - মৃত্যুঃ ২০০৫) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে। [১]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন Edit

আবদুল মজিদের জন্ম গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার দাখিনখান গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. জনাব আলী এবং মায়ের নাম আয়েশা বেগম আহল্লাদী। তাঁর স্ত্রীর নাম জরিনা বেগম। তাঁদের চার ছেলে ও চার মেয়ে।

কর্মজীবন Edit

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের (ব্যাটালিয়ন) সুবেদার মেজর ছিলেন আবদুল মজিদ। এর অবস্থান ছিল যশোর সেনানিবাসে এবং অধিনায়ক (কমান্ডিং অফিসার) ছিলেন বাঙালি লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল জলিল।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা Edit

১৯৭১ সালের শুরুতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে পাকিস্তানে (তখন পশ্চিম পাকিস্তান) বদলি করা হয়েছিল। সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে মার্চ মাসে রেজিমেন্টের অর্ধেক সদস্য ছুটিতে এবং আবদুল মজিদসহ বাকিরা যশোরের জগদীশপুরে বার্ষিক ফিল্ড এক্সসারসাইজে ছিলেন। তখন ওই এলাকা ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। জনবসতি বা মানুষজন ছিল না। ফলে দেশের ঘটনাপ্রবাহ আবদুল মজিদেরা তেমন জানতেন না। ২৫ মার্চ রাত থেকে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে কী ঘটেছিল, তা তাঁদের অজানা ছিল। ২৯ মার্চ দুপুরে তলব পেয়ে রাত আনুমানিক ১২টায় তাঁরা সেনানিবাসে পৌঁছান। পরদিন সকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১০৭ ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার দুররানী রেজিমেন্ট হেডকোয়ার্টারে আসেন এবং রেজিমেন্ট অধিনায়ককে জানান, তাঁদের নিরস্ত্র করা হলো। এরপর তিনি অস্ত্রাগারের চাবি নিয়ে চলে যান। এই খবর মুহূর্তেই বাঙালি সেনাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিদ্রোহ করেন এবং অস্ত্রাগার ভেঙে যাঁর যাঁর অস্ত্র নিজ হাতে নিয়ে চারদিকে পজিশন নেন। খবর পেয়ে যশোর সেনানিবাসে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৫ বালুচ রেজিমেন্ট ও ২২ ফ্রন্টিয়ার ফোর্স তাঁদের আক্রমণ করে। আবদুল মজিদ ও তাঁর সহযোদ্ধারা অত্যন্ত দৃঢ়তা ও দক্ষতার সঙ্গে ওই আক্রমণ প্রতিহত করেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সকাল আটটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত কয়েকবার আক্রমণ করে। প্রতিবারই তাঁরা সেই আক্রমণ প্রতিহত করেন। যুদ্ধ চলাবস্থায় তিনি এবং হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) কয়েকবার অধিনায়ক রেজাউল জলিলের কাছে গিয়ে অনুরোধ করেন, তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়ে নেতৃত্ব দিতে। কিন্তু তিনি নেতৃত্ব দিতে অস্বীকার করেন। এ অবস্থায় তিনি হাফিজ উদ্দিনের ওপর যুদ্ধের নেতৃত দেন। যশোর সেনানিবাসে তাঁদের তুলনায় পাকিস্তানি সেনা ছিল অনেক বেশি। হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল মজিদ ও তাঁর সহযোদ্ধারা বুঝতে পারেন, বেশিক্ষণ তাঁরা যুদ্ধ চালাতে পারবেন না। সে জন্য তাঁরা সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় আবদুল মজিদ তাঁদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে আবার রেজাউল জলিলের সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু তিনি পুনরায় অস্বীকৃতি জানান। বরং একপর্যায়ে তাঁকে কৌশলে তাঁর গাড়িতে তুলে অজানার উদ্দেশে রওনা হন। পথে আবদুল মজিদ বুঝতে পারেন, তাঁর অধিনায়ক আসলে ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন। তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলিত হন। পাকিস্তানি সেনারা উত্তর-পূর্ব-দক্ষিণ, তিন দিক থেকে তাঁদের আক্রমণ করেছিল। পশ্চিম দিক দিয়ে আক্রমণ না করলেও সেদিকেও মাঝে মাঝে গুলি ছুটে আসছিল। তাঁরা শেষ পর্যন্ত ওই দিক দিয়েই সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে চৌগাছায় একত্র হন। এরপর তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। প্রতিরোধযুদ্ধে আবদুল মজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কারণ তখন তাঁদের দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একমাত্র হাফিজ উদ্দিন ছাড়া আর কোনো সেনা কর্মকর্তা ছিলেন না। ফলে তখন নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর ওপরেও অনেক সময় পড়ে। প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে ভারতে যাওয়ার পর আবদুল মজিদ প্রথমে ১১ নম্বর সেক্টরে, পরে নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সের অধীনে যুদ্ধ করেন।[২]

পুরস্কার ও সম্মাননা Edit

তথ্যসূত্র Edit

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ: ২৭-০৮-২০১২
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (দ্বিতীয় খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। মার্চ ২০১৩। পৃ: ১৭০। আইএসবিএন 9789849025375 

টেমপ্লেট:বাংলাদেশের বীর প্রতীক

Ad blocker interference detected!


Wikia is a free-to-use site that makes money from advertising. We have a modified experience for viewers using ad blockers

Wikia is not accessible if you’ve made further modifications. Remove the custom ad blocker rule(s) and the page will load as expected.

Also on FANDOM

Random Wiki