FANDOM


GirlGuide.jpg

গার্ল গাইড

গার্ল গাইডিং হল একটি আন্তর্জাতিক, অরাজনৈতিক, শিক্ষা ও সমাজ সেবামূলক যুবা আন্দোলন। গার্ল গাইডিং আন্দোলনের সৃষ্টির মূল লক্ষ্য হল স্বাস্থ্য ও চরিত্ৰ গঠনে এবং মানবিক গুণাবলি বিকাশে এবং একজন বালিকা বা কিশোরীকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার।

ইতিহাস Edit

লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল ছিলেন স্কাউট ও গাইড আন্দোলনের প্ৰতিষ্ঠাতা। তিনি জাতিতে একজন ইংরেজ ছিলেন। ব্যাডেন পেশায় একজন সৈনিক ছিলেন। তিনি মেয়েদের নিয়ে স্কাউট আন্দোলন শুরু করার জন্য তাঁর বোন এ্যাগনেস ব্যাডেন পাওয়েলকে অনুরোধ জানান। এতে তিনি উত্‍সাহিত হয়ে এই আন্দোলন শুরু করেন। এরপর তাঁর স্ত্ৰী অলিভ লেডী ব্যাডেন পাওয়েল গাইড আন্দোলনকে ফলপ্ৰসূ করে তোলেন এবং এই আন্দোলনকে সম্প্ৰসারিত করার জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী ভ্ৰমণ করেন। এর উন্নয়নের জন্য এবং এই আন্দোলনটিকে জনপ্ৰিয় করে তোলার জন্য তিনি বিশ্বনন্দিত হন। এরপর আস্তে আস্তে সারা বিশ্বে এই গার্ল গাইডিং আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।[১]

বাংলাদেশে গার্ল গাইডিংEdit

১৯৭২ সালে জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশন একটি জাতীয় সংস্থা হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। ১৯৭৩ সালে এ অ্যাসোসিয়েশনকে মেয়েদের শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানরূপে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়, এবং ঐ বছরই এ সংগঠন ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ লাভ করে। বাংলাদেশে ৭টি অঞ্চলের মাধ্যমে গার্ল গাইড কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে থাকে। অঞ্চলগুলো হলো ঢাকা শহর, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট। গার্ল গাইড ৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী বালিকা, কিশোরী ও তরুণীর জন্য এমন একটি সার্বজনীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে যেকোন পরিস্থিতির মোকাবেলা ও পরিবর্তনশীল বিশ্বের উপযোগী নাগরিক হতে শিক্ষা দেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্পূরক শিক্ষা হিসেবে গার্ল গাইড শিক্ষা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত বিষয় হলো গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিকতা ও প্রতিযোগিতা। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিটি জেলায় গার্ল গাইডিং আছে। ১৯৯৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দীক্ষাপ্রাপ্ত গার্ল গাইডের সংখ্যা ৪২,৭৯৪। ক্যাম্পিং বা শিবিরবাস গাইড শিক্ষা কর্মসূচির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গাজীপুর জেলার বারিপাড়ায় অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব ক্যাম্প রয়েছে। সারা বছরে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ক্যাম্পে অংশগ্রহণ অত্যাবশ্যক। ঝাঁক অবকাশ এবং তাবুবাসের মাধ্যমে হলদে পাখি, গাইড, রেঞ্জার, গাইডার এবং কমিশনারগণ সর্বপ্রথম বুঝতে পারেন যে, দায়িত্ব লাভের সুযোগই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও গুণের পুরস্কার। গাইড শিক্ষা কার্যক্রমের প্রায়োগিক উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেত্রী-সদস্যদের জন্য রয়েছে ৮ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি : হলদে পাখি গাইডার, গাইড গাইডার, রেঞ্জার গাইডার, স্থানীয় অ্যাসোসিয়েশন সদস্যা ও কমিশনার, ক্যাম্প ক্রাফ্ট, ওয়ারেন্ট গাইড ওরিয়েন্টেশন, লোন ট্রেনার ওরিয়েন্টেশন এবং প্রয়োজনে ১ বছর মেয়াদী জুনিয়র ট্রেনিং সার্টিফিকেট কোর্স।

অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় গাইড পরিষদ, আঞ্চলিক গাইড পরিষদ, জেলা গাইড পরিষদ এবং উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় গাইড পরিষদ।

বয়সের ভিত্তিতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাEdit

মেয়েদের বয়সের ভিত্তিতে গার্ল গাইডের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ৪টি শাখায় বিন্যাস করা হয়েছে:

  1. হলদে পাখি (৬-১০ বছর): এর মূলমন্ত্র সাহায্য করা;
  2. গার্ল গাইড (১০-১৬ বছর): এর মূলমন্ত্র সদা প্রস্ত্তত থাকা;
  3. রেঞ্জার (১৬-২৪ বছর): এর মুলমন্ত্র সমাজসেবা;
  4. যুবনেত্রী গাইড (২৪-৩০ বছর): এর মূলমন্ত্র সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালবাসা এবং ধর্মের একনিষ্ঠ অনুসরণ। একজন দীক্ষিত গাইড সারা জীবনই গাইড, যার ব্রত প্রতিদিন অন্তত একটি ভালো কাজ করা। এ ভাল কাজের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা সমাজ উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রবীণসেবা, আয়বর্ধন কর্মসূচি গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য প্রকল্পের মাধ্যমে সমাজ ও সমষ্টির উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

গার্ল গাইডিং প্রকল্পসমূহEdit

গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হলো:

  1. শিশু অধিকার সংরক্ষণ প্রকল্প: এর অন্তর্ভুক্ত প্রকল্প হলো দিবাযত্ন কেন্দ্র, সামাজিক শিক্ষা, গাইড হোম (অনাথ, ছিন্নমূল বালিকাদের আশ্রয়কেন্দ্র) ও গণশিক্ষা;
  2. বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ
  3. দূষণমুক্ত পরিবেশ (বৃক্ষ রোপন, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি ও ধোঁয়াবিহীন চুলা ব্যবহার);
  4. স্বাস্থ্য ও পুষ্টি জ্ঞান;
  5. শান্তি ও সংস্কৃতি

এ ছাড়াও গার্ল গাইড বিভিন্ন ভলান্টারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকে।

গার্ল গাইডিং এর অঞ্চলসমূহEdit

বিশ্ব গার্ল গাইড ও গার্ল স্কাউট পাঁচটি অঞ্চলে বিভক্ত: এশিয়া-প্যাসিফিক, আফ্রিকা, ইউরোপ, ওয়েস্টার্ন হ্যামিসফেয়ার ও আরব। এ পাঁচটি অঞ্চলে চারটি বিশ্ব গাইড কেন্দ্র আছে। বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চলের বিশ্বকেন্দ্র ‘সংগম’ ভারতের পুনায় অবস্থিত।

গার্ল গাইডিং এর প্ৰতিজ্ঞা ও নিয়মাবলী Edit

গার্ল গাইডের প্ৰতিজ্ঞা Edit

আমি আমার আত্মসম্মানের ওপর নির্ভর করে প্ৰতিজ্ঞা করছি যে-

  1. আমি যথাসাধ্য স্ৰষ্টা ও দেশের প্ৰতি আমার কর্তব্য পালন করিব।
  2. সর্বদা পরের উপকার করিব।
  3. গাইডের নিয়মাবলি মানিয়া চলিব।[১]

গার্ল গাইডের নিয়মাবলী Edit

গাইডের জন্য ১০টি নির্দিষ্ট নিয়মাবলী আছে। সেগুলো তাদের মানতে হয় এবং নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হয়।

  1. গাইডেরর আত্মমর্যাদা নির্ভরযোগ্য।
  2. গাইড কর্তব্য পরায়ন।
  3. গাইডের কর্তব্য নিজে কার্যোপযোগী হওয়া এবং অপরকে সাহায্য করা।
  4. গাইড সকলের বন্ধু এবং গাইড মাত্রই সকলের ভগ্নি।
  5. গাইড মাত্রই বিনয়ী।
  6. গাইড জীবের বন্ধু।
  7. গাইড আদেশ পালন করে।
  8. গাইড হাসিমুখে প্রতিকূল অবস্থার মোকাবেলা করে।
  9. গাইড মিতব্যয়ী।
  10. গাইড কথা, কাজে ও চিন্তায় নির্মল।

গার্ল গাইডিং এর মূলমন্ত্ৰ Edit

গার্ল গাইডিং এর মূলমন্ত্ৰ হলোঃ সদা প্ৰস্তুত থাকা। এর অর্থ- একজন গাইড, তার মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে এমনভাবে উপযুক্ত ও উপযোগী থাকবে, যাতে করে সে, যে কোনো ধরণের জরুরী পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারে।[২]

গার্ল গাইডের বিশ্ব পতাকা Edit

গার্ল গাইডের বিশ্ব সংগীত Edit

গার্ল গাইডের পোশাক Edit

গার্ল গাইডের কর্মসূচী Edit

আরও দেখুন Edit

তথ্যসূত্র Edit

  1. ১.০ ১.১ শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, সপ্তম শ্ৰেণী, ৫ম অধ্যায়, পৃষ্ঠাঃ৮৬
  2. শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, সপ্তম শ্ৰেণী, ৫ম অধ্যায়, পৃষ্ঠাঃ৮৮

ভিডিও গ্যালারি Edit

Gambia Girl Guides Association 2014 Tour Part 326:29

Gambia Girl Guides Association 2014 Tour Part 3

Bangladesh Girl Guide Camp 201501:28

Bangladesh Girl Guide Camp 2015

Ad blocker interference detected!


Wikia is a free-to-use site that makes money from advertising. We have a modified experience for viewers using ad blockers

Wikia is not accessible if you’ve made further modifications. Remove the custom ad blocker rule(s) and the page will load as expected.

Also on FANDOM

Random Wiki