FANDOM


PORT CTG TAZMEEM.jpg

চট্টগ্রাম বন্দর

Elephant loading in Chittagong port 1960.jpg

হাতি বোঝাই হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে-১৯৬০

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর। এটি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত। ইংরেজ শাসনের প্রথম দিকে ইংরেজ ও দেশীয় ব্যবসায়ীরা বার্ষিক এক টাকা সেলামির বিনিময়ে নিজ ব্যয়ে কর্ণফুলি নদীতে কাঠের জেটি নির্মাণ করেন, পরে ১৮৬০ খৃষ্টাব্দে প্রথম দুটি অস্থায়ী জেটি নির্মিত হয়। ১৮৭৭ খৃষ্টাব্দে চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনার গঠিত হয়। ১৮৮৮ খৃষ্টাব্দে চট্টগ্রাম বন্দরে দুটি মুরিং জেটি নির্মিত হয়। ১৮৮৮ খৃষ্টাব্দের ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনার কার্যকর হয়।[১] ১৮৯৯-১৯১০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনার ও আসাম বেংগল রেলওয়ে যুক্তভাবে চারটি স্থায়ী জেটি নির্মাণ করে ।[২] ১৯১০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে রেলওয়ে সংযোগ সাধিত হয়। ১৯২৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দরকে মেজর পোর্ট ঘোষনা করা হয়।[৩] পাকিস্তান আমলে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনারকে চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রাস্ট-এ পরিণত করা হয়, বাংলাদেশ আমলে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রাস্ট-কে চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটিতে পরিণত করা হয়। [৪] এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারী সংস্থা।

আইন Edit

চট্টগ্রাম সামুদ্রিক বন্দর কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯-এর ৯ ধারা মোতাবেক জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কতৃর্ক একটি শুল্ক বন্দর হিসাবে ঘোষিত। এটি আমদান ও রপ্তানীর জন্য একটি সরকারী রুট।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ Edit

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইংরেজীতে চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি, একটি সরকারী স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা যেটি চট্টগ্রাম সামুদ্রিক বন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত। এর শীর্ষে রয়েছে একজন চেয়ারম্যান ও চার জন্য সদস্যের সমবায়ে গঠিত একটি বোর্ড।

অবস্থান Edit

চট্টগ্রাম বন্দর কর্ণফুলী নদীর প্রাকৃতিক পোতাশ্রয়ে অবস্থিত । এর উত্তরে অক্ষাংশ ২২" ১৮' ৪৫" উত্তর, দ্রাঘিমাংশ ৯১" ৪৬' ৩০" পূর্ব, দক্ষিণে অক্ষাংশ ২২" ০৮' ১৩" উত্তর, দ্রাঘিমাংশ ৯১" ৫০' ০০" পূর্ব।

সমুদ্র সীমা Edit

চট্টগ্রাম বন্দরের সমুদ্র সীমা হলো পতেংগা সংকেত কেন্দ্র থেকে সমুদ্রাভিমুখে সাড়ে ৫ মাইল , আর কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে উজানে হালদা নদীর মোহনা অবধি ২৩ মাইল এলাকা চট্টগ্রাম বন্দর এর অধিকারভুক্ত এলাকা। কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে উজানে ১০ মাইল পর থেকে জেটি আরম্ভ [৫]

জেটির বিবরণ Edit

স্থায়ী পাকা জেটী-১৫ টি
পন্টুন জেটি - ২ টি
বেসরকারি জেটি - ৩ টি
লাইটার জেটি - ৮ টি
মুরিং বার্থ - ১১ টি
মাল্টি পারপাস বার্থ ( কন্টেইনার জেটি) - ১২ টি

পন্টুন জেটিসহ মোট ১৭ টি জেটির মধ্যে ১৩ টি জেটিতে শোরক্রেন ও রেলওয়ে লাইনের সংযোগ আছে। ১১ টি জেটিতে রয়েছে শেড। ১৬ টি ট্রানজিড শেডের মধ্যে মোট আয়তন ১২,৩০,৮৫০ বর্গফুট। ওয়্যার হাউসের মোট আয়তন ৬,৭৭,৫৪০ বর্গফুট , মাল ধারন ক্ষমতা ২৭,৬০০ টন। [৬][৭]

বাতিঘর Edit

রাত্রিকালে বঙ্গোপসাগরে চলন্ত জাহাজকে সংকেত প্রদর্শণের জন্য বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর ও সামুদ্রিক এলাকায় ৫ টি বাতিঘর আছে।

কুতুবদিয়া বাতিঘর Edit

১৮২২ খৃষ্টাব্দে কর্ণফুলি মোহনার ৪০ মাইল দুরে কুতুবদিয়া দ্বীপে এটি নির্মাণ করা হয়, ক্যাপ্টেন হেয়ার এর পরিচালনায় ও ইঞ্জিনিয়ার জে,এইচ,টুগুড এর নির্দেশনায় এই বাতিঘর নির্মাণ করা হয়। পাথরের ভিত্তির উপর নির্মিত এই বাতিঘরের উচ্চতা ১২১ ফুট। ১৮৪৬ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এর নির্মাণ ব্যয় ছিল ৪৪২৮ টাকা। পাকিস্থান আমলে লৌহ নির্মিত টাওয়ারের উপর আধুনিকে বাতিঘর নির্মাণ করে প্রাচীন বাতিঘরটি বাতিল করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিত্যক্ত বাতিঘর ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায়।[৮]

সেন্টমার্টিন বাতিঘর Edit

এই বাতিঘরের প্রতি ১৫ সেকেন্ডে বিচ্ছুরিত আলো ১৭ মাইল পর্যন্ত দেখা যায়।

কক্সবাজার বাতিঘর Edit

এই বাতিঘরের প্রতি ১৫ সেকেন্ডে বিচ্ছুরিত আলো ২১,৫ মাইল পর্যন্ত দেখা যায়।

নরম্যানস পয়েন্ট বাতিঘর Edit

এই বাতিঘরের প্রতি ১৫ সেকেন্ডে বিচ্ছুরিত আলো ১১ মাইল পর্যন্ত দেখা যায়।

পতেঙ্গা বাতিঘর Edit

এই বাতিঘরের প্রতি ১৫ সেকেন্ডে বিচ্ছুরিত সবুজ আলো ১৫ মাইল পর্যন্ত দেখা যায়। ref>বন্দর শহর চট্টগ্রাম - আব্দুল হক চৌধুরী প্রকাশকাল - ২০০৯, পৃঃ ৬৭</ref>

[৯][১০]

আরো দেখুনEdit

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

তথ্যসূত্র Edit

  1. চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইয়ার বুক ১৯৮০, পৃঃ১৭
  2. চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইয়ার বুক ১৯৮০, পৃঃ১৮
  3. মাহবুবুল হক, চিটাগাং গাইড, পৃঃ১৫
  4. চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইয়ার বুক ১৯৮২, পৃঃ ২১
  5. চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ , ইয়ার বুক ১৯৮১, পৃঃ১৪
  6. চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ , ইয়ার বুক ১৯৮২ , পৃঃ ২২
  7. বন্দর চট্টগ্রামের ইতিবৃত্ত (প্রবন্ধ) - জাফর ওসমান, বাংলাদেশের ইতিহাস সমিতি স্মরণিকা ১৯৮৪ , পৃঃ ২২
  8. বন্দর শহর চট্টগ্রাম - আব্দুল হক চৌধুরী প্রকাশকাল - ২০০৯, পৃঃ ৬৬
  9. আবুল মনসুর আহমেদ , বাংলাদেশ কালচার, পৃঃ ২৪৯
  10. চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ , ইয়ার বুক ১৯৮৩, পৃঃ১৫

বহিঃসংযোগ Edit

টেমপ্লেট:চট্টগ্রাম এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ।দয়াকরে সম্প্রাসরণ করে বাংলা বিশ্বকোষকে সাহায্য করুন।

Ad blocker interference detected!


Wikia is a free-to-use site that makes money from advertising. We have a modified experience for viewers using ad blockers

Wikia is not accessible if you’ve made further modifications. Remove the custom ad blocker rule(s) and the page will load as expected.

Also on FANDOM

Random Wiki