FANDOM


লেন হাটন
ব্যক্তিগত তথ্য
উচ্চতা

</noinclude>

Source: ক্রিকেটআর্কাইভ, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

স্যার লিওনার্ড লেন হাটন (জন্ম: ২৩ জুন, ১৯১৬ - মৃত্যু: ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯০) ইয়র্কশায়ারের ফালনেক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ ক্রিকেটার ছিলেন। ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে, তিনি ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন। ১৯৫২ সালে বিংশ শতকের প্রথম পেশাদার ক্রিকেট অধিনায়ক হন। তাঁর অধিনায়কত্বে ১৯ বছর পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ জয় করে ইংল্যান্ড দল। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর সর্বাপেক্ষা বৃহৎ অর্জন ছিল ১৯৩৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজস্ব সর্বোচ্চ ৩৬৪ রান সংগ্রহ করা। এ রান সংগ্রহ করতে তিনদিনে তাঁকে ১৩ ঘন্টা ১৭ মিনিট খরচ করতে হয়েছিল। প্রায় দুই দশককাল তাঁর এ রেকর্ড স্থায়ী ছিল। আজো ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান হিসেবে চিত্রিত আছে। অদ্যাবধি তিনি অবিস্মরণীয় ব্যাটসম্যানরূপে চিহ্নিত হয়ে আছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময় দূর্ঘটনায় তাঁর বাম হাতে আঘাতপ্রাপ্তি ঘটে। এরফলে ডানহাতের তুলনায় ঐ হাত কিছুটা খাঁটো হয়ে যায়। যুদ্ধ পরবর্তীকালে মাঠে নামলে তাঁকে বালকদের হালকা ওজনের ব্যাট নিতে বাধ্য হতে হয়। যুদ্ধের পর তিনি ইংল্যান্ডের প্রধান ব্যাটিং চালিকাশক্তি ছিলেন। দলের সাফল্য অনেকাংশেই তাঁর ব্যাটিংয়ের উপর নির্ভর করতো।

প্রারম্ভিক জীবন Edit

হেনরি হাটন ও লিলি দম্পতির পাঁচ সন্তানের সর্বকনিষ্ঠ লেন হাটন ফালনেকের মোরাভিয়ান সম্প্রদায়ভূক্ত।[১] পরিবারের সবাই স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেট খেলেছেন।[২] ১৯২১ সাল থেকে পাডসের লিটলমুর কাউন্সিল স্কুলে অধ্যয়ন করেন।[১][৩] অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ক্রিকেটের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। খেলার পাশাপাশি অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে ক্রিকেট বিষয়ে পড়াশোনা করতে থাকেন।[২] ১২ বছর বয়সে পাডসে সেন্ট লরেন্স ক্রিকেট ক্লাবে কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দেন ও ক্লাবের দ্বিতীয় একাদশে অংশ নেন। ১৯২৯ সালের মধ্যে দলের প্রথম একাদশে ঠাঁই পান তিনি।[৪] স্থানীয় জনগণের উৎসাহে ইয়র্কশায়ার ক্লাবে যান এবং প্রতিবেশী ও ইংরেজ ক্রিকেটার হার্বার্ট সাটক্লিফের সাথে দেখা করেন। সাটক্লিফ তাঁর প্রতিষ্ঠানে হাটনকে কোচিং করান। সাটক্লিফ তরুন ব্যাটসম্যান হাটনের ক্রীড়াশৈলীতে চমকপ্রদ হন ও ইয়র্কশায়ারের সুন্দর ভবিষ্যৎ উন্মোচনের দ্বার তাঁর মাধ্যমে হবে বলে ভবিষ্যৎবাণী করেন।[৫][৬]

দলীয় চুক্তিবদ্ধতা শেষে ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ সালে হেডিংলি স্টেডিয়ামে কাউন্টি দলের অনুশীলনীতে যান।[৫] ইয়র্কশায়ারের সাবেক ক্রিকেটার জর্জ হার্স্ট তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি হাটনের ব্যাটিং কৌশল সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থির করেন।[৬] এ সময়েই হেডিংলিতে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ব্যাটসম্যান ডন ব্র্যাডম্যানের অপরাজিত ৩৩৪* রানের ইনিংস অবলোকন করেন যা আট বছর পর হাটন নিজেই ঐ রান অতিক্রম করেছিলেন।[৫]

কিশোর বয়সেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ক্রিকেট তারকার চিত্ররূপে গড়ে উঠেন হাটন। ১৯৩৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। এরপর তিনি খুব দ্রুত কাউন্টি স্তরে খেলার জন্য নিজেকে তৈরি করেন। জুন, ১৯৪৯ সালে সাতটি সেঞ্চুরিসহ একমাসে রেকর্ডসংখ্যক ১,২৯৪ রান করেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫৫.৫১ গড়ে ১২৯ সেঞ্চুরি সহযোগে ৪০,১৪০ রান তোলেন। ১৯৬০ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ার দলের হয়ে সর্বশেষ অংশগ্রহণ করেন।

খেলোয়াড়ী জীবন Edit

টেমপ্লেট:টেস্ট ক্রিকেট ব্যাটিং গড় ১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরূপে খেলতে নামেন তিনি। কিন্তু ১৯৩৯ সালে বিশ্বযুদ্ধের কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। ঐ সময় তিনি দেশের তথা বিশ্বের শীর্ষ ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পান। কিন্তু যুদ্ধকালীন সময়ে কমান্ডো প্রশিক্ষণ গ্রহণের সময় বাহুতে গুরুতর আঘাত পান। কিন্তু তিনি আর পূর্ণাঙ্গভাবে বাহুর আঘাত থেকে উত্তোরণ ঘটাতে পারেননি। ফলে, তাঁকে ব্যাটিং কৌশল পরিবর্তন করতে হয়। যুদ্ধের পর ক্রিকেট পুণরায় শুরু হলে হাটন ইংল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যানের আসন ঠিকই ধরে রাখতে সক্ষম হন। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে ইংল্যান্ডের মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব অস্ট্রেলিয়া সফরে যায়। দলটি তাঁর ব্যাটিং কৌশলের উপর পুরোপুরি নির্ভর হয়ে পরে যা তাঁর সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে প্রবাহমান ছিল। আক্রমণধর্মী মেজাজে ব্যাটিংয়ের অধিকারী হাটন পরিসংখ্যানগতভাবে টেস্ট ক্রিকেটে সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে রয়েছেন।

১৯৫২ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত লেন হাটন ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব করেন। কিন্তু তাঁর অধিনায়কত্ব বিতর্কিত পর্যায়ে পৌঁছে। অধিনায়কের ভূমিকায় তিনি কখনো স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি। হাটন অনুধাবন করেন যে, ইংরেজ ক্রিকেটের পরিচালনায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের সাবেক পেশাদার খেলোয়াড়গণ তাঁকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ২৩ টেস্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের সময় দল আট টেস্টে জয় পায় ও চার টেস্ট হেরে যায়। বাদবাকী খেলাগুলো ড্রয়ে পরিণত হয়। ৭৯ টেস্টে ১৯ সেঞ্চুরিতে ৫৬.৬৭ গড়ে রান করেন ৬,৯৭১ তিনি।

অবসর Edit

শারীরিক ও প্রচণ্ড মানসিক দৃঢ়তার অধিকারী হাটন ১৯৫৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ঐ বছরই তিনি নাইটহুড খেতাবে ভূষিত হন। ১৯৬১ সাল পর্যন্ত ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করেন হাটন।[৭]

তথ্যসূত্রEdit

  1. ১.০ ১.১ Howat, pp. 4–6.
  2. ২.০ ২.১ "Len Hutton (Cricketer of the Year 1938)"Wisden Cricketers' Almanack। London: John Wisden & Co। ১৯৩৮। সংগৃহীত ৩ মে ২০১০ 
  3. Howat, Gerald M. D. (সেপ্টেম্বর ২০০৪)। "Hutton, Sir Leonard (1916–1990)"Oxford Dictionary of National Biography। Oxford University Press। সংগৃহীত ১৫ আগস্ট ২০১০ 
  4. Howat, pp. 6–7.
  5. ৫.০ ৫.১ ৫.২ Howat, p. 7.
  6. ৬.০ ৬.১ Hill, p. 170.
  7. Howat, pp. 169–70.

Ad blocker interference detected!


Wikia is a free-to-use site that makes money from advertising. We have a modified experience for viewers using ad blockers

Wikia is not accessible if you’ve made further modifications. Remove the custom ad blocker rule(s) and the page will load as expected.

Also on FANDOM

Random Wiki